Skip to main content

বিপদতারিনী বা বিপদনাশিনী কে ?

 
শ্রী_শ্রী_বিপত্তারিনী_বা_বিপদনাশিনী_পূজা*
         
   🕉️✧═══════•❁❁•═══════✧🕉 

          আজ শ্রী শ্রী বিপত্তারিনী বা বিপদনাশিনী পূজা।
জয় মা আদী শক্তি🔱

👉বিপদতারিনী বা বিপদনাশিনী কে  ? 

যিনি সমগ্র বিপদ থেকে রক্ষা করেন বা যিনি বিপদ সমূহ নাশ করেন তিনিই বিপদতারিনী । যিনি দুর্গা তিনিই বিপদতারিনী । তিনি পুরাণে কৌষিকীদেবী নামে খ্যাতা । আবার তিনিই জয়দুর্গা । দেবীর উৎপত্তি হয়েছিলো ভগবান শিবের অর্ধাঙ্গিনী দেবী পার্বতীর  কোষিকা থেকে- তাই তিনি কৌষিকী । পুরাণ মতে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামক দুই অসুরের হাতে দেবতারা পরাজিত হয়ে হিমালয়ে গিয়ে মহামায়ার স্তব করতে লাগলেন । সেই সময় ভগবতী পার্বতী সেই স্থান দিয়ে যাচ্ছিল্লেন। দেবী তাদের স্তব শুনে বললেন – “ আপনারা এখানে কার স্তব করিতেছেন ? ”

👉সেই সময় ভগবতী পার্বতীর শরীর থেকে তার মতন দেখতে আর এক জন দেবী বের হয়ে আসলেন । সেই নব আবির্ভূতা দেবী জানালেন – “ ইহারা আমারাই স্তব করিতেছেন ।”

👉এই দেবী যুদ্ধে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামক অসুরের বধ করেছিলেন । এই দেবী মোহাচ্ছন্ন শুম্ভাসুরকে অদ্বৈত জ্ঞান দান করে বলেছিলেন- 👇

“ ঐকেবাহং জগত্যত্র দ্বিতীয়া কা মমাপরা ।
পশ্যৈতা দুষ্ট ময্যেব বিশন্তো মদবিভূতয়ঃ ।। ”

( এই জগতে এক আমিই আছি । আমি ছাড়া আমার সাহায্যকারিনী আর কে আছে ? ওরে দুষ্ট ভাল করে দেখ , ব্রহ্মাণী প্রভৃতি শক্তি আমারই অভিন্না বিভুতি বা শক্তি । এই দেখ তারা আমার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ।”)

👉 দেবীর ধ্যান মন্ত্রঃ-👇

ওঁ কালাভ্রাভাং কটাক্ষৈররিকুলভয়দাং মৌলীবন্ধেন্দুরেখাম্ ।
শঙ্খং চক্রং কৃপাণং ত্রিশিখমপি করৈরুদ্বহন্তীং ত্রিনেত্রাম্ ।
সিংহাস্কন্ধাধিরুঢ়াং ত্রিভুবন – মখিলং তেজসা পুরয়ন্তীম্ ।
ধ্যায়েদ্ দুর্গাং জয়াখ্যাং ত্রিদশপরিবৃতাং সেবিতাং সিদ্ধিকামৈঃ ।।

👉এর অর্থ- কালাভ্র আভাং ( এর অর্থ দুই প্রকার হয়, একটি স্বর্ণ বর্ণা অপরটি কালো  মেঘের ন্যায় ) , কটাক্ষে শত্রুকূলত্রাসিণী , কপালে চন্দ্রকলা শোভিতা, চারি হস্তে শঙ্খ, চক্র, খড়্গ ও ত্রিশূল ধারিণী, ত্রিনয়না, সিংহোপরি সংস্থিতা , সমগ্র ত্রিভুবন স্বীয় তেজে পূর্ণকারিণী , দেবগণ- পরিবৃতা , সিদ্ধসঙ্ঘ সেবিতা জয়াখ্যা দুর্গার ধ্যন করি । 

👉এই জয়দুর্গা বা কৌষিকীদেবী,  বিপদতারিনীদুর্গা । পঞ্চদেবতার একজন । দেবীর অনেক রূপ দেখা যায়। উত্তর ভারতে অষ্টাদশ রূপের ধ্যান ও পূজা হয়, কোথাও দশভুজা রূপে পূজা হয়, কোথাও আবার চতুর্ভুজা স্বর্ণ বর্ণা আবার কোথাও কৃষ্ণ বর্ণা রূপে পূজিতা হয় । জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে মঙ্গল ও শণিবারে মায়ের পূজো হয় । যেখানে ১৩ প্রকার ফল, পুস্প, মিষ্টি, পান সুপারী অর্পণ করা হয়।  আসুন মায়ের চরণে প্রনাম জানাই। মা যেনো সকলের সর্ব প্রকার বিপদনাশ করেন ।
জয় মা বিপত্তারিনী।
যেখানে মায়ের নাম সেখানে আনন্দধাম 🌿🌿

*#শ্রীকৃষ্ণ_ভক্তিতে_অগ্রসর_হওয়ার_উৎসাহ_দিন*
*#শেয়ার_করে_অন্নন্য_কে_জানতে_সহায়তা_করুন*
                    ❀ *জয় শ্রীরাধেশ্যাম* ❀   
            
              ╲\ | / /╭━━  " ҉♥️" ҉-━━╮╲\ | / /
           " ҉♥️" ҉   *কৃষ্ণময় হোক জীবন*    " ҉♥️" ҉-
              ╱/ | \╲╰━━ " ҉♥️" ҉-"━━╯╱/| \╲

Comments

Popular posts from this blog

খেলার ঘর (গল্পে উপদেশ )

এ ক বালক পুরীর সমুদ্রের পাড়ে বালি, রঙিন কাগজ, দড়ি দিয়ে সুন্দর সুন্দর ঘর বানিয়েছিল খেলার জন্য। সব সময় সে সেই খেলার ঘরের চিন্তা নিয়েই থাকত। হঠাৎ এক সময় সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এসে তার খেলার ঘর ভেঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। বালকটি তখন অত্যন্ত আকুল হয়ে কাঁদতে শুরু করল। কারণ বহু কষ্টের তৈরী তার মমতার খেলার ঘর এবং বহুদিনের পরিকল্পনা সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। তার বাবা এসে বললেন, ‘বাছা। কেঁদে কোন লাভ নেই। চল বাড়ী ফিরে চল।’ বালকটি বলল, ‘না, আমার ঘর ভেঙে গেছে। আমি যাব না। বাবা বললেন, ‘না না, তোমার আসল ঘরে চল। সেই ঘর এই ভাবে কখনও ভাঙে না আমার হাত ধর, চল।” । হিতোপদেশ। আমরা এই জড় জগতে যত বড় বড় পরিকল্পনা করি না কেন, কালসমুদ্রের মহাতরঙ্গে আমাদের সমস্ত সুখের আশা নস্যাৎ হয়ে যাবে। আমরা বাধ্য হব আমাদের প্রিয়জন, প্রিয় শরীর ঘর-বাড়ি, গাড়ি-ঘোড়া, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সব কিছু ছেড়ে দিতে। কিন্তু পরম পিতা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশে তাঁর কারুণ্যশক্তির প্রকাশ বিগ্রহ শ্রীগুরুদেব নিত্যানন্দময় গোলক থেকে ভূতলে আবির্ভূত হয়েছেন, আমাদের চির আশ্রয় আনন্দময় নিত্য শাশ্বত পরমানন্দ ধামে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। সেই জ...

পান্ডবা নির্জলা একাদশী মাহাত্ম্য:

জ্যৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের এই নির্জলা একাদশী ব্রত সম্পর্কে ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে শ্রীভীমসেন-ব্যাস সংবাদে বর্ণিত হয়েছে। মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন- হে জনার্দন! আমি অপরা একাদশীর সমস্ত মাহাত্ম্য শ্রবণ করলাম এখন জ্যৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপাপূর্বক আমার কাছে বর্ণনা করুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন, এই একাদশীর কথা মহর্ষি ব্যাসদেব বর্ণনা করবেন। কেননা তিনি সর্বশাস্ত্রের অর্থ ও তত্ত্ব পূর্ণরূপে জানেন। রাজা যুধিষ্ঠির ব্যাসদেবকে বললেন- হে মহর্ষি দ্বৈপায়ন! আমি মানুষের লৌকিক ধর্ম এবং জ্ঞানকান্ডের বিষয়ে অনেক শ্রবণ করেছি। আপনি যথাযথভাবে ভক্তি বিষয়িনী কিছু ধর্মকথা এখন আমায় বর্ণনা করুন। শ্রীব্যাসদেব বললেন-হে মহারাজ! তুমি যেসব ধর্মকথা শুনেছ এই কলিযুগের মানুষের পক্ষে সে সমস্ত পালন করা অত্যন্ত কঠিন। যা সুখে, সামান্য খরচে, অল্প কষ্টে সম্পাদন করা যায় অথচ মহাফল প্রদান করে এবং সমস্ত শাস্ত্রের সারস্বরূপ সেই ধর্মই কলিযুগে মানুষের পক্ষে করা শ্রেয়। সেই ধর্মকথাই এখন আপনার কাছে বলছি। উভয় পক্ষের একাদশী দিনে ভোজন না করে উপবাস ব্রত করবে।দ্বাদশী দিনে স্নান করে শুচিশুদ্ধ হয়ে নিত্যকৃত্য সমাপনের পর শ্রীকৃষ্ণের ...